রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০০৯

প্রকাশিত কবিতা

প্রকাশিত কবিতা
শীতে কাতর হইনি ॥
-কাজের সন্ধানে সন্ধানে ক্ষয় হ’তে হ’তে
  কিছু শক্তি এখনো আছে দেহে,- যা’দিয়ে
    এ’পাশ ও’পাশ ফিরে শুয়ে ব’সে থাকা যায়,
     তবে, -কাজের সন্ধানে বেরোনো সম্ভব নয়।
-পঙ্গু নই, প্রতিবন্ধীও নই,- আমরা কর্মজীবী,
    -শ্রমদাতা আমরা ;- নই আলসে ভিখারি।
-মানুষকে ভিক্ষা দিতে আসে !
  দাতা সেজে আসে ! সেয়ানা ভিখিরিরা !-
                     - দেখে লুকাই লজ্জায়।
 
খয়রাতি কম্বল-শীতবস্ত্রে ঢেকে ঢেকে
প্রচারণার মাধ্যমগুলো গরম রাখা যায় ;
তা’তে, -দেহের অংশ,- চোখটুকু,- ঢাকা যায় জানি,
-- কখনো যায় না ঢাকা,--
-সম্মানিত শ্রমদাতার ঘামে-ভেজা-পবিত্র  দেহখানি।
 
খয়রাতি খাদ্য-বস্ত্র-দাওয়া চায় না মানুষ ;
  -শ্রমদাতারা চায়, -বিনিয়োগে-বিনিময়ে
   বিশ্ববাজারটাকে পরিচিতির আওতায়।
শুধু ভালোমন্দ ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দিলেই
 ন্যায্যমূল্যে চাহিদামতো পণ্যে পণ্যে ভরিয়ে দিতে পারে ;
                      --কর্মজীবীরা শীতে কাতর নয় ॥
 
দূর থেকে শ্রমজীবীদের নাম ভাঙ্গিয়ে,
  কাঙ্গালরূপে দেখিয়ে দেখিয়ে সাঙ্গপাঙ্গসহ ভিক্ষাজীবীরা
                    ক্ষণস্থায়ী অভিজাত-রূপে পরিচিত ॥
-যদি না-থাকে ! বহুরূপী ভিক্ষাবৃত্তি !--
    -খয়রাতি-মালে-প্রতিপত্তি  সহ পোষ্যদের নিয়ে
      পেশাদার অভিজাত ভিখারিরা টেকে না বিধানে ॥
 
ভিখারির সাথে খয়রাতি মাল নিয়ে টানাটানি
  করে না শ্রমদাতা,-- ঘটে না মানহানি,-
    -- শ্রমজীবীরা ‘বিনিময়’ পদ্ধতিতে বিশ্বাসী ॥
 
কর্মজীবী দেহের তাপের কাছে,
  -‘শীত’,-- সমস্যা নয় ;--
   --সাময়িক ঠাণ্ডায় জমে না তারা,
    -উঁচু বাঁধ দিয়ে বন্যা ঠেকাতে পারে,
     -ভিজিয়ে দিতে পারে খরায় ফাটা ক্ষেত।
 
-‘বিনিময়’-এ বিশ্বাসী শ্রমদাতারা
   ‘কর্মক্ষেত্র’-কে চলন্ত বাসস্থান   জেনে
       দখল ছেড়ে দেয় অচল প্রাসাদের
 
কর্মজীবীরা কখনো মরে না ভিক্ষাজীবীর মতো
        দেহে-মনে দূরারোগ্য রোগে ভুগে ভুগে ॥
 
শ্রমদাতারা ভিক্ষা চায় না পোষ্যদের মতো ;
  -দান চায় না,-- তারা চায় প্রতিদান সসম্মানে ॥
 
ভিখিরিরা সাঙ্গপাঙ্গ-সহ খয়রাতি মাল
  ফিরিয়ে নিয়ে যাক্ নিজেদের আড়তে ;-
   -বাঁচুক খেয়ে-প’রে স্বজাতির সঙ্গে কম্বল জড়িয়ে।
--মানুষগুলোকে নিজেদের দলে না-টেনে
  ভিক্ষাজীবীরা এতটুকু জেনে যাক্,-
-শীতে-বন্যায়-খরায়,--
  শ্রমদাতা কর্মজীবীরা কাতর-ক্লান্ত নয় ;
  -চায় না তারা ‘বেকার-ভাতা’ কোনো ভিক্ষাজীবীর কাছে ॥
 
আত্মসম্মানিত মানবসন্তানগুলো চায়,-- অবমুক্তি ;
  -‘খয়রাতি কৌশলে দাবিয়ে রাখা সুযোগ’-এর মুক্তি।
   শ্রমজীবীরা চায়, -বিশ্ববাজারের চাহিদামতো
        সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা ॥
 
রঙ্গপুর - ২০ /০১ /২০০৩ খ্রি: 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন