শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০০৯

দিবাস্বপ্ন - পৌষ ১৪১৪।

দিবাস্বপ্ন - পৌষ ১৪১৪।

তখনো আমরা ধৈর্য ধ’রে অপেক্ষা করছিলাম আর চাচ্ছিলাম যে, পরের পদক্ষেপগুলো সার্বজনীন কল্যাণের দিকে অগ্রগামী রাখার চেষ্টা চলবে।
ভুল সংশোধনের কোনো ভুল পদক্ষেপ চক্রাকারে গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছে দেখে সম্ভাবনাময় সজীব সতেজ মানবসন্তানগুলো যেন হঠাৎ ক্ষেপে উঠে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হ’তে না-পারে, আমরা চূড়ান্ত কৌশল খাটিয়ে তাদেরকে দমিয়ে দমিয়ে ধৈর্য এবং সহ্যের নিশ্চিত জয়লাভের প্রামাণ্যকাহিনিগুলো শোনাচ্ছিলাম আর তারাও আশার বাণী শুনতে শুনতে প্রত্যাশাকে সামনে রেখে রেখে প্রহর গুনছিলো।
তবে, কেউ কেউ সহ্য করতে না-পেরে, নাগরিক অধিকার নিয়ে মামলা করতে চাইলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কী পরিমাণ কোর্ট ফী জমা দিতে হবে, যখন জানতে চাচ্ছিলো আর তাদের দুর্বোধ্য অভিযোগগুলো, যেমন,--
যৌক্তিক চাহিদার নিত্যপ্রয়োজনীয় ন-বিলাস দ্রব্যাদির দ্রব্যমূল্য, সর্বনিম্ন স্তরের বেতনভোগী চাকরের বৈধ ক্রয়ক্ষমতার নাগালে রাখা হচ্ছে না।
কিম্বা, একজন সাধারণ দিনমজুরের দৈনিক মজুরীর তুলনায় তার প্রাপ্য ভোগ্যপণ্যের সমকালীন বাজারদর অসহনীয় মাত্রায় চড়া রাখা হয়েছে, ফলে, অস্তিত্ব রক্ষা করতে চাইলে তার চরিত্র নষ্ট হচ্ছে অথবা সততা রক্ষা করতে চাইলে তার অস্তিত্ব অরক্ষিত হচ্ছে।
কিম্বা, আমার যোগ্যতানুসারে আমার জন্যে কর্মসংস্থানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না, অর্থাৎ , আমার নাগরিক অধিকারকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে,
-তাদের ইত্যাদি ইত্যাদি জটিল দাবি বা অভিযোগগুলো থামানোই যাচ্ছিলো না।
‘আর কিছুকাল ধৈর্য ধরো’-বলা মাত্রই সেই ‘কিছুকাল’টার অর্থ ‘আজকের এই কর্মহীন দশা নিয়েই বৃদ্ধকালে পৌঁছানো পর্যন্ত’ কি-না, এমনি ধরণের প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জবাবের অপেক্ষায় না-থেকে তারা বললো,‘স্বাধীন বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। তাই, মামলায় যেতে চাই। আমরা কাকে অভিযুক্ত করতে পারি, জানালে অথবা জানতে পারলেই, অভিযোগ পেশ ক’রে বিচারের রায়ের প্রতিক্ষায় ধৈর্য ধারণ করবো, তা’ মেনে নিতে আপত্তি নেই ; কর্মহীন অবস্থার ধৈর্যকে সহ্য করার তুলনায় সেটা আমাদের জন্যে সহজতর,’-বলছিলো তারা আর একে একে আমাদের নাগালের বাইরে চ’লে যাচ্ছিলো।
ওদেরকে ফেরানোর চেষ্টার ব্যর্থতায় আমরা অস্থির হচ্ছিলাম।
‘যেয়ো না, ফিরে এসো, এখনো জানো না তোমরা চাইতে শিখোনি সমন্বিত চাওয়া,’ সমস্বরে আমরা বলতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু একটা নিষ্ক্রিয় ফোঁসফোঁসানি ছাড়া কোনো আওয়াজ আমাদের মুখ দিয়ে বের হচ্ছিলো না।
আমার বাড়ন্ত চেষ্টাতে দম আট্কে যাওয়ার দুর্বোধ্য গোঙানি শুনে পাশের ঘর থেকে সহজীবীরা ছুটে এলো।
জেগে মনে হলো আমার কাঁধে কেউ ঝাঁকুনি দিচ্ছে আর ‘হারাটিয়া, ও হে রঙ্গপুরের কবিরাজ, -বোধয় ঘুমায়নি রে, সারারাত জেগে থেকে সকালে শুয়েছে, অ-বেলার ঘুমে, বুঝলি ? মনে হয় ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন, -ও কবিরাজ সাহেব, গোঙাচ্ছিলেন ক্যানো ? কিছু দেখেছেন ?’ বলতে বলতে জাগাচ্ছিলো আমাকে।
-‘এ্যাঁ- না, -ও হ্যাঁ, স্বপ্ন, একটা ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন ! -’ চোখ মেলে তাকিয়ে বল্লাম আমি।


( হারাটিয়া কবিরাজের রোজনামচা থেকে সযত্নে সরানো )                         
রঙ্গপুর      -- ১৮ /১২ /২০০৭    

                                             

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০০৯

আত্মমর্যাদা

আত্মমর্যাদা
  
কী বিশাল বিস্ময় ! এমনই করুণাময় !
অথচ জেনে এসেছি বাণিজ্যিক এ জগৎসংসার !
নিজেকে নির্দোষ ব’লে দাবি করবার জন্য
কিছু অজুহাত কিছু সাক্ষ্যপ্রমাণ জড়ো করা
তেমন কঠিন কিছুই নয়
ব্যক্তির প্রতিপক্ষ পরিবেশ এখানে এমনই করুণাময় ...

তাছাড়া সেয়ানা চালবাজ এই আমি জানি যুক্তির জোরে
মিথ্যাকেও সত্যের খোলসে ঢাকবার নিত্যাধুনিক কৌশল
এমনকি ধরা প’ড়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনার ক্ষেত্রে
সহজেই জাগাতে পারি সাজানো শোরগোল
দয়াময় জনগোষ্ঠী আত্মকোন্দলিত অর্থহীন প্রতিহিংসায়
আর ঐ সুযোগেই নিশ্চিন্ত আমি অক্ষত নিরাপদ
দারুণ এ সুযোগটা করুণা আমার জন্য
উন্মত্ত জনগোষ্ঠী সুযোগ দিতে করে না কার্পণ্য
জটিল বাণিজ্যিক এ জগৎসংসার ! এমনই করুণাময় !

তবে ! আত্মসম্মানবোধ চাড়া দিলে
ঘৃণ্য মনে হয় যেকোনো ধরণের করুণাগ্রহণ
এবং যখন জাগ্রত আমার অপ্রকাশমান অহংকার
ও সব নিকৃষ্ট ছলাকলায় যেতে চায় না গর্বিত মন
আর সেখানে স্ব-সম-মানে সত্যটা প্রকাশ ক’রে দিয়ে
নিজের অপরাধের বিচার দাবি ক’রে
সম-মানের শাস্তি চেয়ে নেওয়াতেই যেন
গর্বিত মর্যাদাবানদের জন্য নিরাপদ মনে হয় ...

রঙ্গপুর  --২০/০৫/২০০৬

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০০৯

রঙ্গপুর চামড়া-বাজার

রঙ্গপুর চামড়া-বাজার

অন্যকে সুপরামর্শ দেওয়ার আগে
যথার্থ জ্ঞানী যেভাবে নিজের বিচার করেন !
আর আমরা ! বুলিসর্বস্ব পোশাকিরা !
পোশাক সামলাতে এতই ব্যস্ত যে,
জ্ঞানীদেরকে অনুসরণ করাই হয় না
বরং এখানে অন্যকে নীতিকথা শোনানোর আগে
নিজেরাই ওগুলো মানি কি-না তা’ ঘেঁটেও দেখি না !
কী জঘন্য সস্তা আত্মপ্রতারণা ! তাজ্জব কাণ্ড !
জেনে বুঝে এখনো কেউ জুতোপেটা করলো না !
সভ্যজনেরা আমাকে নীরবে সহ্য করলো !
---ক্ষমা করলো !......
নাকি চামড়ার বাজার এখানে খুবই চড়া !?

রঙ্গপুর     ---২৩/০৪/২০০৫

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০০৯

গণতন্ত্রের চর্চা : চার (সতর্কীকরণ)

গণতন্ত্রের চর্চা :  চার      (সতর্কীকরণ)
  
নেমে পড়ো, নেমে পড়ো রাস্তার পাশে,
থামাও রাষ্ট্রের পতাকাবাহী ঐ চলন্ত চারচাকার গাড়ি,-
                                 প্রতিনিধি, নেমে আসো।
আমরা তোমার নির্বাচকেরা, পথচারী,
 আমাদের সম্মানে নেমে আসো রাস্তার পাশে।
গাড়ির ইঞ্জিন চালু থাকুক।
আমাদের তেলের কতটুকু অপচয় হবে
  তা’ নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।
ব্যস্ত তোমাকে আজ আমরা আটকে রাখবো না।
আমাদেরকে শুধু শ্রদ্ধা জানিয়ে
 সসম্মানে ঐ গাড়িতে চড়েই
  আবার চ’লে যেয়ো, যেখানে যাচ্ছিলে।
এভাবেও যদি আমাদের আত্মসম্মানবোধ
জেগে ওঠে তো,-আমাদের কিছু হোক বা না-হোক,
                 তুমি লাভবান হবে, এটা নিশ্চিত।
আমার ভোট, আমার রায়,
   নিজেকে নিজে বেচে দিতে পারি
       মাঝারি মাপের একটা দেশি মুরগির দামে।
এই তো সেদিন জাতীয় নির্বাচনে
প্রতিনিধির পদবীটা কিনে নিতে পেরেছো ভেবে
                          গর্বের হাসি হেসেছিলে।
আমাকে কিনে নিতে পারার গৌরবের হাসিতে
 তোমাকে বেশ মানায় হে, আমাদেরই উপযুক্ত প্রতিনিধি,
            নিজেকে বেচি কার কাছে, জানি না এখানে।
আত্মসম্মান কাকে বলে, সেটাও বুঝি না যখন,
নিজেকেই যে-জন একটা মুরগির সমমূল্যে বেচতে পারে
এমন মালিকের কাছে তার প্রতিনিধির দাম, মনে রেখো,
 প্রচলিত বাজারে একটা ডিমের সমান, তবে
 নির্বাচকেরা আহাম্মক থেকে গেলে ডিমটাও যেন বেশি,
  ডিমের খোসার সমতুল্য মূল্যটা পেলেই
   যেকোনো ক্রেতার কাছে তোমাকে বেচে দিতে পারে।
প্রতিনিধি, তোমাকে সতর্ক রাখার জন্যে আমরা গাড়ি থামিয়ে
  রাষ্ট্রের তেল-মবিল আর ইঞ্জিনের যেটুকু ক্ষয় করলাম
   আগামীতে আমাদেরকেই ক্ষয়পূরণের ধকল সইতে হবে জানি।
গাড়ির ইঞ্জিন চালু থাকতে থাকতেই উঠে বসো গাড়িতে,
 যাও, যেখানে যাচ্ছিলে যাও, কার তেল কোথায় কিভাবে পোড়ে
  ভেবে দুঃখ পেয়ো না, নিজেকে কষ্ট দিয়ো না, ভালো থেকো,
          যেখানেই তুমি যাও, সাথে রেখো আমাদের সতর্কবাণী।

রঙ্গপুর : -২৩ /১১ /০৮               করণিক :   আখতার হারাটিয়া ।

প্রকাশিত কবিতা

প্রকাশিত কবিতা
শীতে কাতর হইনি ॥
-কাজের সন্ধানে সন্ধানে ক্ষয় হ’তে হ’তে
  কিছু শক্তি এখনো আছে দেহে,- যা’দিয়ে
    এ’পাশ ও’পাশ ফিরে শুয়ে ব’সে থাকা যায়,
     তবে, -কাজের সন্ধানে বেরোনো সম্ভব নয়।
-পঙ্গু নই, প্রতিবন্ধীও নই,- আমরা কর্মজীবী,
    -শ্রমদাতা আমরা ;- নই আলসে ভিখারি।
-মানুষকে ভিক্ষা দিতে আসে !
  দাতা সেজে আসে ! সেয়ানা ভিখিরিরা !-
                     - দেখে লুকাই লজ্জায়।
 
খয়রাতি কম্বল-শীতবস্ত্রে ঢেকে ঢেকে
প্রচারণার মাধ্যমগুলো গরম রাখা যায় ;
তা’তে, -দেহের অংশ,- চোখটুকু,- ঢাকা যায় জানি,
-- কখনো যায় না ঢাকা,--
-সম্মানিত শ্রমদাতার ঘামে-ভেজা-পবিত্র  দেহখানি।
 
খয়রাতি খাদ্য-বস্ত্র-দাওয়া চায় না মানুষ ;
  -শ্রমদাতারা চায়, -বিনিয়োগে-বিনিময়ে
   বিশ্ববাজারটাকে পরিচিতির আওতায়।
শুধু ভালোমন্দ ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দিলেই
 ন্যায্যমূল্যে চাহিদামতো পণ্যে পণ্যে ভরিয়ে দিতে পারে ;
                      --কর্মজীবীরা শীতে কাতর নয় ॥
 
দূর থেকে শ্রমজীবীদের নাম ভাঙ্গিয়ে,
  কাঙ্গালরূপে দেখিয়ে দেখিয়ে সাঙ্গপাঙ্গসহ ভিক্ষাজীবীরা
                    ক্ষণস্থায়ী অভিজাত-রূপে পরিচিত ॥
-যদি না-থাকে ! বহুরূপী ভিক্ষাবৃত্তি !--
    -খয়রাতি-মালে-প্রতিপত্তি  সহ পোষ্যদের নিয়ে
      পেশাদার অভিজাত ভিখারিরা টেকে না বিধানে ॥
 
ভিখারির সাথে খয়রাতি মাল নিয়ে টানাটানি
  করে না শ্রমদাতা,-- ঘটে না মানহানি,-
    -- শ্রমজীবীরা ‘বিনিময়’ পদ্ধতিতে বিশ্বাসী ॥
 
কর্মজীবী দেহের তাপের কাছে,
  -‘শীত’,-- সমস্যা নয় ;--
   --সাময়িক ঠাণ্ডায় জমে না তারা,
    -উঁচু বাঁধ দিয়ে বন্যা ঠেকাতে পারে,
     -ভিজিয়ে দিতে পারে খরায় ফাটা ক্ষেত।
 
-‘বিনিময়’-এ বিশ্বাসী শ্রমদাতারা
   ‘কর্মক্ষেত্র’-কে চলন্ত বাসস্থান   জেনে
       দখল ছেড়ে দেয় অচল প্রাসাদের
 
কর্মজীবীরা কখনো মরে না ভিক্ষাজীবীর মতো
        দেহে-মনে দূরারোগ্য রোগে ভুগে ভুগে ॥
 
শ্রমদাতারা ভিক্ষা চায় না পোষ্যদের মতো ;
  -দান চায় না,-- তারা চায় প্রতিদান সসম্মানে ॥
 
ভিখিরিরা সাঙ্গপাঙ্গ-সহ খয়রাতি মাল
  ফিরিয়ে নিয়ে যাক্ নিজেদের আড়তে ;-
   -বাঁচুক খেয়ে-প’রে স্বজাতির সঙ্গে কম্বল জড়িয়ে।
--মানুষগুলোকে নিজেদের দলে না-টেনে
  ভিক্ষাজীবীরা এতটুকু জেনে যাক্,-
-শীতে-বন্যায়-খরায়,--
  শ্রমদাতা কর্মজীবীরা কাতর-ক্লান্ত নয় ;
  -চায় না তারা ‘বেকার-ভাতা’ কোনো ভিক্ষাজীবীর কাছে ॥
 
আত্মসম্মানিত মানবসন্তানগুলো চায়,-- অবমুক্তি ;
  -‘খয়রাতি কৌশলে দাবিয়ে রাখা সুযোগ’-এর মুক্তি।
   শ্রমজীবীরা চায়, -বিশ্ববাজারের চাহিদামতো
        সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা ॥
 
রঙ্গপুর - ২০ /০১ /২০০৩ খ্রি: 

ভিখারিনামা

সূরিয় প্রতিবেদন 
ধৈর্য এবং সহ্যের ব্যাপারে
 এই ভূখণ্ডের মানবসন্তানদের শ্রেষ্ঠত্ব
  এখনো পর্যন্ত সবার উপরে ;
 ‘হাজারে পঁচিশ জন’ ভিখারির
     বিচিত্র অপকর্ম দেখেও এরা
                নীরবে সহ্য করে।
 
রঙ্গপুর - ০৫/০৯/২০০৩ খ্রি:


ভিখারি চরিত
 
ভিখারি 
ঝুলি মেরামতে কালক্ষয় নাম-মাত্র ভোগ,
 এতটাই ব্যস্ত যে যৎসামান্যই উপভোগ,
  -ভিক্ষাজীবীর যা-কিছু ব্যয় ;
   -প্রায় সমস্তটাই অপব্যয়,-
    --ব্যয়ের ধরণ দেখেই ভিখারি চেনা যায়।
ভিখারিরা কৃপণ, -কৃপণেরা ভিখারি ;
--যখারীতি ভিখারিরা অপচয়কারী ;-
  --যতই থাকুক অস্থায়ী প্রভাব প্রতিপত্তি,
   -ঘোচে না কাঙ্গালিপনা ;
     --কখনো তৃপ্ত হ’তে পারে না ভিখারি ॥

রঙ্গপুর - ০৩/০৯/২০০৩ খ্রি:

ভিখারির বাপেদের দশা
এখানে অবিবেচ্য সাময়িক প্রভাব,
এখানে অবিবেচ্য অস্থায়ী প্রতিপত্তি।
পার্থিব বিনিময় না-দিয়ে যারা
  শুধু পেতেই চায় এবং পেতেই চায় ;
   -দাতার দানে জাগতিক চাহিদা মেটায় ;
            --তারাই ভিখারি, --অভিশপ্ত,
                     --অক্ষম মানবসন্তান।

তাদের পিতারা ভিতরে বাইরে
নিত্য বিধিবদ্ধ করুণাই শুধু পান।

অবিবেচ্য এখানে অস্থায়ী প্রভাব,
এখানে অবিবেচ্য সাময়িক প্রতিপত্তি।
এবং সমাজে এবং মানুষের মনে,
      ভিখারির বাপেদের বরাদ্দে
            সর্বোচ্চ নিকৃষ্টতম স্থান ॥

রঙ্গপুর      - ৩০ /০৭ /২০০৩ খ্রি:

ভিখারি থেকে মানুষ
ভিখারি, ভিখারির প্রতিদ্বন্দ্বী ॥
 মানুষ এবং ভিখারি সমান নয় ;
   -মানুষ নয় অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী।
মানুষ, -প্রত্যেকেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী,
   --ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য নিয়ে ধন্য।
মানুষের দ্বন্দ্ব নিজের সঙ্গে ; -
 মানুষ নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ॥
মানুষের সঙ্গে ভিখারির তুলনা !--
  -কিম্বা, -ভিখারির সঙ্গে মানুষের !-
   --খণ্ড যুক্তি দিয়ে মেলানো গেলেও
     তা’ দিয়ে বাস্তব বিধান চলে না।
ভিখারি থেকে মানুষে রূপান্তর সম্ভব ;
কিন্তু ! মানুষ থেকে ভিখারিতে রূপান্তর !
        -অসম্ভব, -অসম্ভব, --অসম্ভব ॥
 
রঙ্গপুর     - ১৫ /০৯ /২০০৩ খ্রি:

মধ্যভাষণ

মধ্যভাষণ 

বৃহস্পতির কোনো উপগ্রহে জলের সন্ধান মিলেছে কিম্বা মেলেনি
তা’ নিয়ে ব্যস্ত-বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের জটিল তর্কালোচনার উদ্দেশ্যে
সম্ভবত আমরা কেউই এখানে আসিনি ...

অভিজাত-ভিখারিরা চেটে চেটে জিভের ছাল ক্ষয় ক’রে কার পায়ে
দগদগে ঘা বানালো আর কাদের উৎপাদিত আলু ভুট্টা বেগুন কলা
কুমড়ো কাঁঠাল গাজর মুলো রপ্তানি-নীতির গলদের কারণে
বিশ্ববাজারে যথাযথ মূল্য না-পেয়ে বর্জ্য হলো!
সেই কাহিনী শোনার মতো লম্বা ধৈর্য নিয়েও আসিনি এখানে ...

দক্ষতা-সাপেক্ষে সাধারণ জণগণের
সকল সম্ভাবনাময় উৎপাদনমুখি কর্মক্ষেত্রগুলো জেগে উঠলে
ঐ সার্বজনীন-লাভে ত্রাণখোর বিত্তবানদের কী পরিমাণ ক্ষতি হবে
কিম্বা তাদের দলগণের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কোনো বাধা
আসবে কি-না এসব প্রমাণিত বিষয় নিয়ে পর্যালোচনার উদ্দেশ্যেও
সম্ভবত আমরা এখানে সমবেত হইনি ...

অলঙ্কার-উৎপ্রেক্ষা-উপমা ছাড়া কবিতা, রূপকবিহীন শিল্প ভাবনা
বিমূর্ত-ভাস্কর বিনির্মাণের চেষ্টা বা অপচেষ্টা আদৌ সফল হবে কি-না
কিম্বা হ’লেও কখনো কোনো প্রায়োগিক ক্ষেত্র খুঁজে পাবে কি পাবে না
তা’ নিয়ে সালিশি-বৈঠকও নয় আজকের এই সমাবেশ ...

সহচরীদের তীক্ষ্ণ বিদ্রুপ, অজুহাত-উত্থাপনকারীদের নিত্য ব্যস্ততার ভান,
আপামর জনগণের অহেতুক ভীতি প্রদর্শনের পরও কাব্যাকার বিলিপত্র
যত্রতত্র বিতরণের মতো স্বেচ্ছাচারি-আহাম্মকি-কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবে
উৎসাহিত কিম্বা তিরস্কার করার উদ্দেশ্যেও কেউ আসিনি এখানে ...

সকল বিরূপ-আপত্তি ডিঙ্গিয়ে গণক্ষমা ক’রে দিয়েও এই ভূখণ্ডে
সাধারণ জনগণ তাঁদের বিচারবিভাগের স্বাধীনতা দেখতে পেলোনা ব’লে
উদ্দেশ্যমূলক কোনো ইস্তেহার ঘোষণার মাধ্যমে
গণজাগরণের নামে গণ-আক্রোশ জাগানোর
কূটনীতি নিয়েও কেউ আসিনি এখানে ...

আত্মসম্মানবোধ জাগ্রত না-হ’লে কিম্বা সম-মানের সমস্যায়
আক্রান্ত না-হ’লে আমরা কেউ আসতাম কি-না সেটাও আলোচ্য নয় ...

বরং নিজের প্রতিবিম্বিত-দশা-দর্শনের লক্ষ্যে বিকল্প পথ না-পেয়ে
সাময়িক অবসরের এই সম্মেলনে অন্য সকলের মতো শুনতেই এসেছি
বলা বাহুল্য এটা কোনো গণ-আদালত কিম্বা তর্কাগার নয়
সুধীবৃন্দ, নির্ভয়ে মুক্তমনে প্রত্যেকে স্ব-সত্য কিছু বলুন, নীরবে শুনবো,
কেবল অভিযোগ-বাক্য ছাড়া আর যা’কিছু বলবেন, --সবই শুনবো ...

রঙ্গপুর --২০/০৩/০৫ খ্রি:


সঙ্ সমাচার

নিত্য যত সম্পদ গোপনে লুট ক’রে আনি
প্রকাশ্যে বিধাতা চুরি ক’রে নিয়ে যায়
টিকে থাকে বিধাতার ভারসাম্যের মহাসংসার
 

লুটেরা নরাধমের সম্পদের জমানো পাহাড়
গণফুৎকারে নিমেষেই ছারখার
চূড়ান্ত বরাদ্দে ভিখারির সঙ্ সাজাই সার.....

২৫/০৭/২০০৫ খ্রি:


বোধোদয়
আমার একার কোনো ভালোই যে, দেশের ভালো নয়...
সহজ এ বিষয়টা আমি বুঝতে চাই না সোজাসুজি
কখনো বা না-বোঝার ভানে পলায়ন চেষ্টা করি
তবে দশের পক্ষ থেকে চড়-থাপ্পড় আসতে দেখলে
দশের ভালোতে যে আমারও ভালো
হয়তো বা আমি তখন কিছুটা বুঝি
এখানে চড়-থাপড়ের বদলে যখন দেখি লাথি-গুরি
পালাতে না-পেরে ধরাপড়া আমি বুঝি পুরোপুরি

রঙ্গপুর --০৫ /০৯ /২০০৫